"পদ্মানদীর ভাঙ্গনে"
"পদ্মানদীর ভাঙ্গনে"
-মাইনুল ইসলাম-
পদ্মার ভাঙ্গন দেখবি যদি
আয় রে তোরা ছুটে,
মানুষের আর্তনাদে কান্নাকাটি
কতই না লোক জুটে।
সর্বগ্ৰাসী রাক্ষসী
ফুঁসছে ফণা তুলে,
বন বন বন ঘুরছে পানি
নাচছে হেলে দুলে।
ঢেউ আছড়ে পড়ছে তটে
উথালে পাথালে,
ঝপাস করে ধ্বস নামছে
মিশছে পদ্মা জলে।
ঝুর ঝুর ঝুর ঝরছে মাটি
ভিতর ভিতর ফাটি,
ভয় ঢুকেছে হৃদয়ে মোর
রাত্রি নাহি কাটি।
কাটতে কাটতে নদী এখন
বাড়ির পেছন ধারে,
ঘুম আসে না চোখে মুখে
শুধুই অশ্রু ঝরে।
গোয়ালভরা গরু ছিলো
গোলাভরা ধান,
হঠাৎ করে নিল কেড়ে
জীবনটা খান খান।
চষা জমি পাঁচ বিঘা
দালানকৌঠা বাড়ি,
পদ্মাগর্ভে তলিয়ে গেল
সইতে কি আর পারি।
কত জমি চোখের সামনে
কাটছে অবিরত,
বাদশা আজ ফকিরবেশে
জুড়ায় কি তার ক্ষত?
আম্রকানন কাঁঠাল লিচু
ভাসছে জলের তোড়ে,
ঘূর্ণিপাকের যাঁতাকলে
পিষছে জোরে জোরে।
পদ্মানদী খামখেয়ালী
যেন মত্ত হাতি,
নিমেষে সব লন্ডভন্ড
বড্ড মাতামাতি।
নাইকো বাড়ি নাইকো গাড়ি
নাইকো ভিটেমাটি,
সর্বহারা পথভিখারী
কলিজা আমার ফাটি।
সোনার সংসার ভেঙ্গে গেল
পদ্মানদীর বুকে,
কি নিয়ে আর বাঁচবো বলো
মরছি ধুঁকে ধুঁকে।
আমার মত আরো কত
বাস্তুভিটে হারা,
পদ্মাগ্ৰাসে স্তব্ধ জীবন
সবাই দিশেহারা।
কোথায় মন্ত্রী কোথায় সান্ত্রী
সব ডুমুরের ফুল,
অযোগ্যদের নেতা করে
করেছি মস্ত ভুল।
বিপদেতে পাই না দেখা
শুধু ভোটের সময় ঘুরে,
কার্যসিদ্ধি হলেই তারা
জনতাকে ফেলে ছুঁড়ে।
Comments
Post a Comment