ভৈরব নদীর স্মৃতচারণায়
"ভৈরব নদীর স্মৃতচারণায়"
-মাইনুল ইসলাম-
ভাদ্রমাসে ভরা বান
ভৈরবনদী ওঠতো ফুলে,
সারে সারে থাকতো নৌকা
বাঁধা নদীকূলে।
পালতৌলা নৌকাগুলি
চলতো নদীবুকে,
মাঝি ভায়ারা গান ধরতো
কতই না মনের সুখে।
বৈঠা ধরে নৌকায় বসে
মারতো হুঁকোয় টান,
উদ্দীপনা জাগতো প্রাণে
ক্লান্তির অবসান।
জেলেরা সব স্রোতের মুখে
পাত তো ট্যাকজাল,
জালের ফাঁদে ধরা পড়তো
রুই কাতলা বোয়াল।
মাছ কিনতে নদীতীরে
ছুটতো সবাই আগে,
হুড়োহুড়িতে মাছ পেতো না
ফুঁসতো কেউ বা রাগে।
দলবেঁধে সাঁতার কেটে
নদী পারাপার,
প্রতিযোগিতা চলতো সেথা
মানতো না কেউ হার।
ডিগবাজি রকবাজি
হরেক রকম খেলা,
জল থেকে উঠতো না কেউ
কাটতো সারাবেলা।
কাকভোরে নদীতীরে
জুটতো কচিকাঁচা,
বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরতে
বানাতো বাঁশের খাঁচা।
কেঁচো হাতে ময়দা সাথে
বঁড়শির মুখে বিঁধে,
সারাটা দিন মাছ ধরতো
লাগতো না কারো ক্ষিদে।
পদ্মানদীর ইলিশ মাছ
আসতো নদীপথে,
স্বাদেভরা বিশ্বখ্যাত
জমতো ঝোলে ভাতে।
ঐ নদীপথে নৌকা ভরে
বইতো ভাদোয় ধান,
কৃষক চাষি রাত্রিবেলা
ধরতো জারি গান।
গরু দিয়ে ধান মাড়াই
কুলো দিয়ে ঝাড়াই,
ভাদ্রমাসে ভাদোয় ধানে
ধূম পড়তো পাড়ায়।
এখন নদী কোথায় হারিয়ে গেছে
চোরাবালির স্রোতে,
পলি জমে ফলছে সোনা
চাষির ক্ষেতে ক্ষেতে।
আর বানবন্যা হয় না সেথা
চলে না কো নৌকা,
ভৈরব নদীর গল্প বললেই
বলবে আমায় বোকা।
সেই নদীর স্মৃতিগুলো
অক্ষিপটে ভাসে,
দিনগুলি কি ফিরে পাবো
আর কি কভু আসে?
Comments
Post a Comment